মুখোমুখি

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন গ্রীষ্ম সংখ্যা মে ২০১৭ ইং 

আমাদের প্রদীপদা মানে প্রদীপ সরকারের সঙ্গে আমার যখনই দেখা হয়েছে তখনই আমার সর্বপ্রথম যেটা চোখে পড়েছে সেটা হল তাঁর অমলিন হাসিমুখ। সঙ্গে এক মিলিটারি সাদা গোঁফ এবং সাদা চুল। একেবারে যেন জমিদারি চেহেরা। প্রথম যেদিন প্রদীপদার সঙ্গে দেখা তখনও ওই চেহেরা। আজও একই চেহেরা। আসলে প্রদীপদা সাহিত্যের লেখলেখির জগতে এসেছেন অনেক পরে। শুনেছি আগেও উনি লিখতেন, তবে প্রকাশিত হয়নি। আমাদের সঙ্গে পরিচয় ২০০১ সালের দিকে। উনি কবিতার বই বের করবেন বলে ভাষা প্রকাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সেইসময়। তারপর ধাপে ধাপে তাঁর দুটো কবিতার বই, তিনটে গল্পের বই এবং তিনটে উপন্যাসের বই বের হয়েছে পরবর্তী সময়ে। ‘তবুও মানুষ’ উপন্যাসের জন্যে ২০০৪ সালে ত্রিপুরা সরকারের সলিলকৃষ্ণ দেববর্মন স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন। শিক্ষকতার চাকুরি করতেন, অবসর নিয়েছিলেন ২০০৫ সালে। মূলত ঔপন্যাসিক হিসেবেই প্রদীপদার সার্থকতা বেশি দেখি। বর্তমানে প্রদীপদা আগরতলায় থাকেননা, খোয়াই থাকেন। সেদিনই জানলাম, কলম ধরলেই প্রদীপদার হাত কাঁপে তাই এখন লিখতে পারেননা। তাঁর ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে ভাষা প্রকাশনের উদ্যোগে আগরতলা প্রেস ক্লাবে.১৫-০৫-২০১৭ তারিখ সন্ধ্যেয় এক মনোজ্ঞ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিন প্রায় আশি জনের মতো কবি-লেখক সমবেত হয়েছিলেন। এমন কি ফেসবুকের সংবাদ দেখে বাংলাদেশ থেকে দুজন কবিও (মনির হোসেন এবং বাছির দুলাল) উপস্থিত হয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে প্রদীপদার জন্ম বাংলাদেশেই। সেদিন কল্যাণব্রত চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং নির্মল দাশের (প্রদীপদার উপন্যাস নিয়ে) আলোচনায়, আশিস মোদক এবং শৈবাল রায়ের স্মৃতিচারণসহ, আবৃত্তি ও গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সার্থকভাবে শেষ হয়েছিল। --- সদানন্দ সিংহ 

এই লেখাটা শেয়ার করুন