কবিতা

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন গ্রীষ্ম সংখ্যা মে ২০১৭ ইং 

কুমারেশ তেওয়ারীর পাঁচটি কবিতা

খাম্বাজ রাত্রিতে


নিরালম্ব হয়ে বসে থাকার মধ্যেও একটা

উন্মাদনা আছে। যেটি গোপনীয় হলেও

তার চাকাগুলি কিন্তু খুব পল্লবকাতর। 

আর দোষ কোথায়। একটি মৃতদেহকেও

যদি জিজ্ঞেস করা হয় তার শেষ ইচ্ছে,

সেও হয়তো বলে উঠতেই পারে 

কাস্পিয়ান সাগরের ঢেউয়ে ভাসতে 

ঢেউ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পরীদের নৃত্য দেখতে পেলে

সে প্রয়োজনে নিজের হাতেই খুলে ফেলবে

নরকের দ্বার। যেখানে কড়াইয়ে ফুটন্ত তেল

তাও আচ্ছা। শুধু তার আগে যেন আশ্রমের

গং শব্দটি শুনতে দেওয়া হয় খাম্বাজ রাত্রিতে।



অপ্রকাশিত


মেঘের ভেতরে যে জলীয় বাস্প থাকে

তার সঙ্গে আমি তুলনা করতে চাই

নারীর ভেতরে থাকা মনস্তত্ত্বের


মেঘেদের যেমন চাকা থাকে এবং গড়িয়ে গড়িয়ে

চলে যেতে পারে বিষণ্ণ কোনো পানশালার দিকে

জলীয় বাস্প ঢেলে ধুইয়ে দিতে পারে 

তার দু-চোখের পাতা


নারীরাও যে কোনো শীতের দুপুরে 

ছাদের উপরে বসে দেখতে থাকে লক্কা পায়রার উড়াল


কিছুটা উপরে উড়ন্ত চিলের ছায়া দেখে

তারা কিছুতেই ঠিক করতে পারে না

কোন স্কেলে গেয়ে উঠবে অপ্রকাশিত গান



আদিম


একটা চিরুনির গোপন কথা জানতে চেয়ে

কান পাতলেই তার দাঁড়ে 

একই সাথে শুনতে পাওয়া যাবে 

চুড়ির রিনিঠিনি আর ঘোড়ার হ্রেষণ


খুব তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তির অধিকারী কেউ

শুনতেও পারে চিরুনির ভেতরে গলে গলে

পড়ছে মোম

আর গরম নিঃশ্বাস ফেলছে গলনাঙ্ক


এসময় রেফ্রিজারেটরের ভেতর থেকে

কপাট খুলে বেরিয়ে আসা কোনো পেঁয়াজ নাচতে নাচতে তার গা থেকে পোশাক খুলে ফেলতে ফেলতে

দেখাতে চাইবে শল্কমোচনের প্রক্রিয়াটি

সেই আদিমই রয়ে গেল আজও



উন্মোচন


খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে দুজন বৃদ্ধ

কাকে অভিবাদন জানাতে টুপি খুলে

ওড়াচ্ছিল বিকেল বাতাসে

তা জানার কথা ছিলোনা 

পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা নাঙ্গা গাছটির

শুধু বহু দুরে হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে

পাহাড়ে উঠতে থাকা সূর্য

হয়তো জানতো সব গোপনীয় কথা

তেরচা আলোয় তার অবিমিশ্র ছায়া

ভারী করে তুলছিল পাহাড়ের ক্লান্ত সানুদেশ

বহু নীচে মনোরম মেপল রাস্তায়

ছুটন্ত ঘোড়ার পিঠে তুতেনখামেন!



ঢেউ


জালতন্ত্র ওই টপকালো কুমুদবাগান

তারপর ধুমপাঁচিল পেরিয়ে রাইজানালা

সারাদিনের রোদালা মাখা পর্দায়

লেগে থাকা আলফাজ লাফিয়ে উঠতেই

বাঁশি আমোদ গুনলো আপাতত আর

শুনানির ভয় নেই 

এখন তরণীও চাইছে প্রমোদভ্রমণ


HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন