অনুবাদ গল্প

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন গ্রীষ্ম সংখ্যা মে ২০১৭ ইং 

পিণ্ডদান
এল বীরমঙ্গল সিংহ
(মণিপুরি থেকে বাংলায় অনুবাদঃ লেখক) 

হামারি সাথ ঘুমনে আয়া হ্যায় - একথা বলে রেলে আসার পথে পরিচয় হওয়া বিহারের সেই দুই যুবক আমাদের দুই ভাইকে সামনে পেছনে পাহারা দিয়ে পাণ্ডাদের খপ্পর থেকে মুক্ত করে গয়া রেল স্টেশনের বাইরে নিয়ে য়াওয়ার চেষ্টা করছিল। দেখিয়ে সাবজি, হমে পাতা হ্যায় ইনলোগোকে সাথ ট্রেন পে জান পহেচান হুয়া হ্যায়। গয়া বহুৎ খতরনাক জায়গা হায়। মৎ যাইয়েগা ইনলোগোকে সাথ। এ কথা বলে পাণ্ডারা ব্যাগ ধরে টান দিল এবং আমাদের পিছু নিল।
আমাদের পুরোহিত মোহন ঠাকুর গয়ার মাহাত্ম্য শুনিয়েছিলেন - এটি হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান। গয়াতে পিণ্ডদান করতে পারলে সব জীবই মুক্তিলাভ করে বলে হিন্দুদের বিশ্বাস। তাই বলছিলাম দেবদ্বিজগৎপ্রাণ তোদের মৃত পিতার বাৎসরিক শ্রাদ্ধের আগেই তোরা দুই ভাই গয়াতে গিয়ে পিণ্ডদান করে এসো।
আমরাও পুরোহিতের আজ্ঞা মেনে এক কানি জমি পনেরো হাজার টাকায় বন্ধক রেখে মৃত পিতার আত্মার সদ্‌গতির জন্য গয়ায় পিণ্ডদান করতে এসেছি। দু বছর আগে ছোটবোন থম্বালের বিয়ের সময় দুই কানি উর্বর ধানি জমি চল্লিশ হাজার টাকায় কৃষ্ণধন মহাজনের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল তা আজও ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে তমালদা আমাদের নিষেধ করেছিল - জমি বন্ধক রেখে মৃত পিতার আত্মার সদ্গতির চেয়ে আগে নিজেদের বাঁচার চেষ্টাটা করো। তোদের আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছলতা এলে পরে তীর্থে গিয়ে খুব করে পিণ্ডদান করো। গয়া খুব খতরনাক জায়গা। রেল থেকে নামতেই পাণ্ডারা চেপে ধরবে। প্রতিবেশীদের কথা না শুনে খুড়ো নীলমণি পেনশনে পাওয়া সব টাকা পয়সা নিয়ে একাই গিয়েছিল গয়াতে পিতৃপুরুষের পিণ্ডদান করতে। তার আর কোন হদিসই পাওয়া গেল না।
বহু তীর্থভ্রমণে অভিজ্ঞ শামুখুড়ো আমাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন - খবরদার, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ছাড়া অন্য কোথাও ঊঠবি না। তাই আমরা স্টেশনের পাণ্ডাদের খপ্পর থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে স্টেশনের বাইরে ভারত সেবাশ্রম সংঘের কাঊন্টারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।
বিহারের ছেলে দুটোর সাহায্য নিয়ে অতি কষ্টে স্টেশনের বাইরে চলে এলাম। বাইরে আসতেই চোখে পড়ল ভারত সেবাশ্রম সংঘের কাঊন্টারটি। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মাইকে ঘোষণা করছে। আমাদের নাম ঠিকানা লিখে সংঘের একটি কার্ড ধরিয়ে দিল। সংঘের আশ্রমে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের একটি অটোতে তুলে দিল। আশ্রম খুব একটা দূরে নয়। সেখানে পৌঁছতেই আমাদের বিশ্রামের জন্য একটি ঘরের চাবি হাতে তুলে দিল। আশ্রমের মহারাজ জিজ্ঞেস করলেন - আজই কি পিণ্ডদান সম্পন্ন করবেন?
হ্যাঁ, সম্ভব হলে আজই কাজ শেষ করে ফিরে যাব। আমরা চানের জন্য তৈরি হচ্ছি। মাথা নেড়া করতে হবে কিনা মহারাজকে জিজ্ঞেস করার জন্য বড়দা বললেন। মাথা নেড়া করতে হলে চান করে লাভ নেই। একটা মণিপুরি গামছা পরে আরেকটা গায়ে জড়িয়ে মহারাজের সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করলাম - মহারাজ! পিণ্ডদানে কি মস্তক মুণ্ডন করতে হয়?
- কোত্থেকে এসেছেন, ত্রিপুরা থেকে বুঝি?
- হ্যাঁ, ত্রিপুরা থেকে।
- ত্রিপুরা থেকে আসা তীর্থযাত্রীরাই এই প্রশ্ন করে থাকে। গয়াতে সাধারণত মাথা মুণ্ডন করা হয় না। প্রয়াগে তা হয়ে থাকে। মুণ্ডন করতে গিয়ে রক্তপাত হলে পিণ্ডদান করা যায় না।
মহারাজের এ কথা শুনে আমি ফিরে আসার জন্য পেছসন ফিরতেই তিনি ডেকে জিজ্ঞেস করলেন - আপনি কি মণিপুরি?
গলায় পৈতে, তুলসীমালা তার ওপর মণিপুরি গামছা পরে মহারাজের সামনে যখন হাজির হয়েছি, আর তো নিজের পরিচয় গোপন রাখার ঊপায় নেই। আমি ঘাড় নেড়ে তা স্বীকার করলাম।
- আপনাদের পিণ্ডদান কাজটি কিন্তু আমরা করতে পারব না, ঝামেলা হবে।
কী বলছেন উনি! গয়াতেও কি সামাজিক দলাদলি হয় নাকি? শামুখুড়োর কথামতো আমরা ভারত সেবাশ্রম সংঘে শরণাগত হয়েছি। তাদের শরণাগত হয়েও মুখের ঊপর বলে দিলেন আমাদের পিণ্ডদানের কাজ করতে পারবেন না!
- মণিপুরি জাতির জন্য মণিপুরের রাজারা ভারতের প্রায় সব প্রধান তীর্থক্ষেত্রে পুরোহিত নিয়োগ করে গেছেন। তাই আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনাদের পিণ্ডদানের কাজ আমরা করতে পারব না।
এতো দেখছি দলাদলির ব্যাপার নয়। আমাদের সব উদ্বেগ মুহূর্তে উবে গেল।
- আপনাদের পুরোহিত নির্দিষ্ট করা আছে। তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। আপনারাই তাদের সঙ্গে দর কষাকষি করে ঠিক করে নেবেন। তবে ঠিকমতো দর কষতে না পারলে কিন্তু আপনাদের ভালো টাকা গচ্চা দিতে হবে।
মণিপুরিদের জন্য গয়াতেও নির্দিষ্ট পুরোহিত রয়েছে শুনে খুশি হলাম। কিন্তু পরমুহূর্তে খুশির আবেশ উবে গিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম, পুরোহিতের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হবে ভেবে। ভারত সেবাশ্রম সংঘের ব্যাবস্থাপনায় কী সুন্দর ভাবে সব কিছু হচ্ছে। যার যার সাধ্য মতো আশ্রমের অফিসে টাকা জমা দিয়ে দিলেই ঝামেলা চুকে গেল। তাদের পুরোহিতরা খুব কম পয়সায় পিণ্ডদানের কাজ করে দেবেন। আমাদের জন্য অফিস থেকে বের হয়ে মহারাজ গলা চড়িয়ে হাঁক দিলেন - মণিপুরি পাণ্ডা হ্যায় ক্যা?
- হ্যাঁ জি, বলে পালোয়ানের মতো লম্বা চাওড়া দুজন লোক এগিয়ে এলো। তাদের এই চেহারা দেখে আমার তেমন ভক্তিভাব জাগল না। কেবল মনে হল এই দুই পালোয়ানের সঙ্গে কি আমি যুঝতে পারব!
তারা দুজনে আমাকে আশ্রমের বাইরে নিয়ে গেল। প্রথম পরিচয়েই জিজ্ঞেস করল - কিৎনে মে কাম করাওগে?
আমি উল্টো তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম - আপনারা কত টাকার মধ্যে কাজটা সমাধা করে দেবেন?
- জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে, খরচ তো একটু বেশি হবে বই-কি।
আধ ঘন্টা ধরে গরু-ছাগল কেনার মতো দর কষাকষি হল। আমরা দুই ভাই এসেছি শুনে মাথাপিছু দু’হাজার এক টাকা করে চার হাজার দু’টাকা দাবি করল।
তাদের কথা শুনে রাগ চেপে রাখতে পারলাম না - হম দু’ভাই অলগ অলগ বাপকা বেটা নেহি হু, একহি বাপকা বেটা হ্যায়। তো অলগ অলগ দক্ষিণা কিউ?
আমার রাগ দেখে দুই পালোয়ান ঠাকুর একটু নরম হল - ঠিক আছে একটু কম দিলেও হবে।
- সত্যি কথা বলতে কি পয়সা আছে বলে আমরা গয়াতে পিণ্ডদান করতে আসিনি। বাপ আমল থেকে চলে আসছে বলেই পিণ্ডদান করাতে এসেছি। যত পারা যায় কম টাকাতে আমাদের কাজটা করে দেবেন।
- কত টাকা দেবেন?
- চারশো এক টাকার মধ্যে কাজটা করে দেবেন।
- তিন হাজার, দু হাজার, এক হাজার দর কমতে থাকে। আমি চারশো এক থেকে এক পয়সাও বাড়াতে রাজি হলাম না। শেষ পর্যন্ত এই টাকাতেই রফা হল। কালবিলম্ব না করে চারশো এক টাকা আমার কাছ থেকে আগাম নিয়ে নিল। তারপর তারা একটা টাঙ্গা ডেকে এনে বললেন - এতে উঠে পড়ো, পঞ্চাশ টাকা ভাড়া দিয়ে দিও।
বলিহারি! আধ ঘন্টা ধরে দর কষাকষির পর আগাম দক্ষিণা রেখে আমাদের পিণ্ডদান করার জন্য একা একাই যেতে বলছে!
– হবে না, পুরোত ঠাকুর আপনাকেও সঙ্গে যেতে হবে। না হলে অন্য কাওকে আমাদের সঙ্গে পাঠান। শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে একজন লোক পাঠালেন। লোকটা ফলগু নদীর তীরে নিয়ে আমাদেরকে আর এক পাণ্ডার হাতে তুলে দিল। দেখলাম নদীর তীরে অনেক লোক সারিবদ্ধভাবে বসে একসঙ্গে পিণ্ডদান করছে। মনে হচ্ছে ভারত সেবাশ্রম সংঘের ব্যবস্থাপনায় পিণ্ডদানের কাজ চলছে। আমরা দুই ভাইকেও ফল্গু নদীর তীরে এক গাছের নীচে নিয়ে গেল সেই পান্ডা। সেখানে এক পুরনো মন্দির রয়েছে। নদীর তীরের পান্ডা ঠাকুর মণিপুরি ভাষায় জিজ্ঞেস করলেন - ফুল, ফল, চাল, তিল ইত্যাদি এনেছ? এসো, বসো। তার এসব কথা শুনে ভালো লাগল। এই তো গয়ার আসল মণিপুরি পুরোহিত। বসতে বলে তিনি সেই পুরনো মন্দির থেকে পিণ্ডদানের দরকারি সব উপাচার নিয়ে এলেন। পুরোত মশাই হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ভাষায় পিণ্ডদানের মন্ত্রপাঠ করব - মণিপুরি, বাংলা না কি সংস্কৃত ভাষায়?
- দেবতারা মণিপুরি ভাষা জানে না, সংস্কৃতেই মন্ত্রপাঠ করুন। আমি বললাম।
সে মুহূর্তে কোত্থেকে এক নাপিত এসে হাজির হল। চুল দাড়ি কামাব কিনা জিজ্ঞেস করল। চুল দাড়ি কামাতে গিয়ে রক্তপাত হলে পিণ্ডদান করা যাবে না এই ভয়ে রাজি হলাম না। নিয়ম রক্ষা করে গালের উপর নাপিতকে ক্ষুর আলতো করে টানতে বললাম। গয়ার নাপিত বলে কথা। নিয়ম রক্ষার ক্ষুর চালালেও বিশ বিশ চল্লিশ টাকা দাবি করল। শেষ পর্যন্ত দশ টাকায় রফা হল।
- আমি গয়ায় পিতৃকর্ম সম্পাদন করতে এসেছি। কখনও ক্রুদ্ধ হব না, ব্রাহ্মণ দক্ষিণা দিতে কার্পণ্য করব না। পুরোত মশাই হিন্দিতে আগাম শপথ নেওয়ালেন। মন্ত্র ভেবে বড়দা আর আমি হাতে ফুল নিয়ে চোখ বন্ধ করে শপথ বাক্যগুলো মন্ত্র পড়ার মতো করে পড়তে লাগলাম। পিণ্ড তৈরি করে সংস্কৃত না অন্য কী ভাষা বোঝা গেল না বিড় বিড় করে করে মন্ত্র পড়তে পড়তে পুরোত মশাই পিণ্ডদানের কাজ চালিয়ে গেলেন। আমরাও তার নির্দেশ মতো ফুল, চাল, তিল, জল পিণ্ডের উপর দিচ্ছিলাম। মন্ত্র পড়তে পড়তে পুরোতমশাই হঠাৎই বলে উঠলেন - ব্রাহ্মণ ভোজনকে লিয়ে কিৎনা দেঙ্গে সংকল্প করো।
- এতে সংকল্প করার কী আছে। বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাধ্য মতো কয়েকজন ব্রাহ্মণ ভোজন করালেই তো হল। আমি বললাম।
- না না, সংকল্প করতেই হবে। তোমরা দুভাইয়ে পাঁচশো পাঁচশো করে এক হাজার টাকা ব্রাহ্মণ ভোজনের জন্য দিতে হবে।
- ওগুলো সব আমরা আগাম দিয়ে এসেছি।
- ক্যা বাত হ্যায়, ব্রাহ্মণকা পেট বিকাকে আয়া?
- তা আপনারা জানেন। আমরা কিন্তু দিয়ে এসেছি।
- ব্রাহ্মণ ভোজনের সংকল্প না করলে আমি কিন্তু তোমাদের পিণ্ডদানের কাজ করতে পারব না।
ওহো! নদীর পাড়ের পুরোত মশাইও দেখছি নকল পুরোহিত। এসো, বসো, ফুল, তিল ছাড়া একটি মণিপুরি শব্দও তিনি জানেন না। তার অন্যায় আবদারে আমার মেজাজ চড়তে লাগল। বেশ গলা চড়িয়ে বললাম, পুরোত ঠাকুর আপনি যদি কাজ করতে রাজি না হন তবে কী আর করা, পিণ্ডগুলো নিজেই পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে দেব। ঈশ্বর স্বাক্ষী আছেন।
বড়দা আমাকে সংযত করলেন - কাজটা আগে সমাধা করি। মণিপুরি ভাষায় আমাদের মধ্যে কী কথা হচ্ছে পুরোত মশাই কিছুই বুঝতে পারলেন না।
পুরোত মশাই, আপনি যেহেতু জুলুম করে আমাদের কাছ থেকে দক্ষিণা আদায় করতে চাইছেন, আপনাকে আমাদের কিছুই দেওয়ার ইচ্ছে নেই। তবু কিছু দিতে হয় তাই এগারো এগারো করে বাইশ টাকা দক্ষিণা দিচ্ছি।
- ঠিক আছে, দুশো এক করে চারশো দু টাকা দিয়ে দাও।
- আপনি আমাদের পিণ্ডদান ক্রিয়া সমাধান করবেন কি করবেন না তা স্পষ্ট করে বলুন। না হলে আমরা উঠে পড়ি, ঈশ্বর উপর থেকে সব দেখছেন।
কী জানি ভাবল, পুরোত মশাই আবার মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। অতি কষ্টে পিণ্ডদানের কাজটা সমাধা করা গেল।
পুরোত মশাই এরপর আমাদের চরণপাদ, অক্ষয়বট প্রণাম করিয়ে বিষ্ণু মন্দিরে নিয়ে গেলেন। মন্দিরের সামনে আমাদের হাঁটু গেড়ে বসিয়ে হাতে ফুল ধরিয়ে আবার সংপল্প করতে বললেন। এবার আমি হাতে ফুল নিলাম না। কী সংকল্প করতে হবে তা আগাম জানাতে বললাম। পুরোত মশাই অনেক নরম হয়েছেন।
- আমি ত্রিপুরাতে বেড়াতে আসব, তখন আমাকে চারটি নতুন ধুতি দেবে বলে সংকল্প করো।
পুরত মশাইয়ের এই কথায় তার প্রতি আমার করুণা হল।
- আমি সংকল্প করছি, ঠাকুরমশাই আপনি একজন সঙ্গী নিয়ে ত্রিপুরায় বেড়াতে আসুন। রেলে দুজনের আসা যাওয়ার সব খরচ আমি বহন করব। তার উপর ত্রিপুরায় আপনার থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা আমি করব। এবার পুরোত মশাই খুব খুশি হলেন। প্রাণ খুলে মনের সব কথা বলতে শুরু করলেন। তার সঙ্গে কথা বলে বেশ ভালো লাগল।
- পুরোত ঠাকুর, আপনি কেন তখন আমাদের কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায় করতে চেয়েছিলেন? আপনার সেই জুলুমবাজির জন্যই টাকা দিতে গিয়েও দেওয়ার ইচ্ছে হয়নি।
পুরোতমশাই দুঃখ করে বললেন - কী আর বলব, এখন গয়াতে মণিপুরি তীর্থযাত্রীরা আগের মতো আর আসে না। ফলে আমাদের বাঁচা বড় কষ্ট হয়ে পড়েছে। দেখতেই পাচ্ছ ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুরোহিতরা একসঙ্গে একশো তীর্থযাত্রীকে বসিয়ে পিণ্ডদান করাচ্ছে। জনপ্রতি পঞ্চাশ টাকা করে হলেও কত টাকা দক্ষিণা পাচ্ছে! আর আমাদের মাত্র দু একজন। তাও সবদিন জোটে না। নিরুপায় হয়েই আমরা যত পারা যায় দক্ষিণা আদায় করার ফন্দি পাকাই। কিছু মনে করো না। আমাদের তো খেয়ে পরে বাঁচতে হবে। তোমরাও দল বেঁধে একসাথে এসো। তাহলে দু’পক্ষেরই লাভ হবে। থাকা খাওয়ার কোন কষ্ট হবে না, আমরাই সব ব্যবস্থা করব।

ঠিক সে মুহূর্তে গয়ার এই পুরোত ঠাকুরকে আমাদের গ্রামের সংবেদনশীল পুরোহিত মোহন ঠাকুরের মতোই দেখাচ্ছিল।
                                                                                                                                     HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন