মুক্তগদ্য

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন হেমন্ত সংখ্যা নভেম্বর ২০১৬ ইং 

বুদবুদ
অরুণিমা চৌধুরী

ছোট বড়, কুলীন, গ্রামীণ, যেকোন মেলায় আর কিছু থাকুক না থাকুক, দেখবেন, ভীড়ের ভেতর দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি, অবিরাম বুদ্‌বুদ উড়িয়ে যান। 
মেলাচলতি মানুষের গায়ে মাথায়, মুখে সোহাগ বুলিয়ে, ছুঁইমুই বুদ্‌বুদগুলো কেমন ফুট ফুট করে ফেটে যায়!
প্রত্যেকটা বুদ্‌বুদের আলাদা আদল, আলাদা রূপ। মাথায় ঝলমলে সাত রঙের খেলা.., অথচ, বুদ্‌বুদওয়ালা কিন্তু কোনদিন কাউকে হেঁকেডেকে বুদ্‌বুদ বিক্রি করেন না, আমি অন্তত: দেখিনি।
আর, কোন জ্ঞান হওয়ার বয়েস থেকে এই বুদ্‌বুদের উপর আমার অনন্ত আকর্ষণ!
কী বলবো আর! পুঁচকে এত্তোটুকু একটা কৌটো ভর্তি সাবান জল, আর একটা ফাঁদালো ফাঁপা কাঠি। মুশকিল হচ্ছে, বুদ্‌বুদওয়ালার মতো বড়ো বড়ো বুদ্‌বুদ অনেক চেষ্টাতেও তখন বানাতে পারতাম না, (এখনো পারবো না)। তারপর, সাবানজল সুরুৎ করে টানতে গিয়ে, ভেবলির মতো, প্রায়শই গিলে ফেলতাম।
তারপরের বিঘ্ন বিপত্তি. উঁউউউ..ডট ডট ডট..না বলাই ভালো। তাই, মাতৃদেবীর প্রতিবার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান উপেক্ষা করেও যদি খোঁট মেরে দাঁড়িয়ে, বায়না জুড়ে এক কৌটো জুটতো, বাড়ি আসা মাত্র, উপুড় হস্ত। সাবান জলের দফারফা। তখন, শ্যাম্পু গুলে হোমমেড দাওয়াই। তাতে আবার বাড়িতে তৈরি ফুচকার মতো স্বাদহীন বুদ্‌বুদ। হয়তো, আমিই পারতাম না.. কিম্বা.. সেভাবে কিছুই বোধহয় ঠিক পেরে উঠিনা..।
তবে বুদ্‌বুদদের ভারি টান..এ আকর্ষণ আজও পিছু ছাড়লো কই!!
সেবার বইমেলাতেও একপলক কি দেখলাম অনন্ত বুদ্‌বুদ রাশি! পা কি আটকে গেছিলো একবার হলেও!! এখন তো আর কেউ বারণ করবেনা। সাবানজল পেটে গিয়ে সর্বনাশ হবার তেমন ভয় নেই। তবু,..ইচ্ছে করে অমন অলৌকিক বুদ্‌বুদের মধ্যে হেঁট মুন্ড উর্দ্ধপদ হয়ে আবার জন্ম নিই, আবার ছুঁয়ে আসি জন্মান্তর..
ফেটে যাবে জেনেও,সাতরঙ মুকুটওয়ালা, ওহে, বুদ্‌বুদ স্বপ্নরাজি..আজও তো নিরন্তর ফুঁ দিয়েই চলেছি, দিয়েই চলেছি,যতক্ষণ না পুঁচকে কৌটোর সাবান জলের পুঁজি ফুরোয়..।
                                                                                                     HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন