কবিতা

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন হেমন্ত সংখ্যা নভেম্বর ২০১৬ ইং 

ঢাকা - ৩০ শে জুন ২০১৬

চয়ন ভৌমিক 


তারপর আর কিছুই বলার নেই আমার। শুধু মনে রাখুন আজকের মত অনুষ্ঠান শেষ। আর কোনো গান নেই, কোনো শিল্পী নেই তালিকায়। অপেক্ষাটাই এখন এক কারণহীন সময় নষ্ট, হে শ্রোতৃমণ্ডলী। বসে আছেন, জানি হয়তো মন ভরলোনা আপনাদের। যে সব বিনোদনের আশায়, প্রখর দুপুরের ঘাম মুছে এসেছিলেন আপনারা দূরদূরান্ত থেকে, তা হয়তো সার্থক হলো না এই তিনঘণ্টা ব্যাপী সুন্দর সন্ধ্যায়। কর্তৃপক্ষ আলো আর হাওয়া বন্ধ করে দেবেন এবার। আমাদের সীমাবদ্ধতার জন্য দুঃখিত আমরা, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার উপায় নেই একদম। বিদায় নেওয়ার আগে কথা দিচ্ছি, যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, আবার দেখা হবে আপনাদের সাথে। তখন আপনাদের হতাশ করবেনা আমাদের পরিকল্পনাহীনতা। শুধু জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিয়ে কেড়ে নেবেনা আপনাদের উল্লাস করার দামী মুহূর্তটুকু। এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে পড়ুন না হয় আজকের মত। আর, দরজা বন্ধ করে দেওয়ার আগে, শুধু একবার বলি - ' ভালো থাকবেন সবাই'। আশাকরি আসছে বছর কাফেটেরিয়ায় গেলে, আপনাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করে দেবেনা, মানুষখেকোদের আস্তিনে লুকানো নাশকতা আর সন্ত্রাসবাদ, এই আজকের মতো।বিদায়, নিশ্চিতে ঘুমাতে পারেন এবার আপনারা বাড়ি গিয়ে - 'শুভরাত্রি জীবিত মৃত সকলকে'।


পরজন্মের ঠিক আগে

চয়ন ভৌমিক 


তবে শূন্য থেকে শুরু করি আবার। বন্ধ্যা জমিতে দাঁড়িয়ে, খুব দরকার বরাতটাকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার। চিত্রগুপ্তের কাছ থেকে যে দূত এসেছিল, আজ ভোরে, তাকে মিষ্টি খাইয়ে, কুশল মঙ্গল জিজ্ঞাসা করে বিদায় দিতে বেশ বেলা হয়ে গেল। সমস্ত সইসাবুদের পর, আমার হাতে এখন, আমার গতজন্মের সমস্ত পাপ ও ভুলের বিস্তর খতিয়ান। বেশ মোটাসোটা এই দস্তাবেজ পড়তে রাত কেটে যাবে মনে হয়। তবুও মন দিয়ে পড়ে এক এক করে পর্যালোচনা করে ফেলতে হবে সেই কালো তালিকার। যে মাশুল গুনেছি গতবার, এবার তা পুনরাবৃত্তির কোনো ইচ্ছাই নেই আমার। ডাক্তারবাবু জন্মাব আবার, কিন্তু নাড়ি কাটা বন্ধ থাক বরঞ্চ, আজ রাতের মত। আপনার ছুরি, কাঁচি, আর হাবিজাবি ওষুধপত্রের গন্ধ সরানো থাক আজ। একটু একা থাকা কাম্য এখন। আমার পুরোনো পালক, আমার অস্তিত্বহীন মুখোশ, আমার লুকানো আলমারির অন্ধকার চাবি থেকে, ধুলোটুলো ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে, সমস্ত ভ্রষ্ট রিপু। প্রতিষেধক আর পুষ্টিকর খাবার কোথা থেকে আহরণ করা যায় ভাবতে হবে পরিজিনদের সাথে বসে। আবার সর্পদষ্ট হতে চাই না আমি, বেঘোরে প্রাণ খোয়াতে চাইনা এক খুনী আসামীর মত। এইসব অপঘাতজনিত মৃত্যুর পর, বড় কষ্ট দ্যায় যমরাজের গরম কড়াই জানেনতো ভদ্রমহোদয়গণ। গরম তেলে ভাজে, আর তারপর ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দ্যায়, সাতজন্মের হা-ঘরে বিড়ালের মুখের ধারে, যমরাজের পোষা কুত্তারা জানেনতো সূধীবৃন্দ। তাই এবার ঠিকানা ভুলের কোনো উপায়ই রাখবোনা আমি। সঠিক পথে হাঁটবো বলে মুচলেকা দিয়ে তবেই আবার ফিরতে পারছি আপনাদের দরবারে। আশা করি আত্মোপব্ধির পর পরজন্মে একটা শান্তিময় বিদায় পাওয়া যাবে। 

                                                                                         HOME   


এই লেখাটা শেয়ার করুন