অণুগল্প

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন হেমন্ত সংখ্যা নভেম্বর ২০১৬ ইং 

চেকিন উৎসব 
ব্রতীন বসু

ছেলের স্কুলের হলিডে হোমওয়ার্কের প্রজেক্ট। উৎসব। প্রত্যেক উৎসবের পাঁচটা করে ছবি জমা দিতে হবে।
দুর্গাপুজো ঈদ জন্মাষ্টমী দিওয়ালি ক্রিস্টমাস।
আমি অফিস থেকে ফেরার পথে পাড়ার সাইবার কাফে থেকে সব করিয়ে নিয়ে ঢুকলাম।
--- বাবলু দেখ তো ছবিগুলো ঠিক আছে?
সবে জামা ছেড়ে চা এর কাপটা নিয়ে বসেছি।
বাবলু রেগে মেগে হাজির,
--- বাবা কি কর তুমি। ছবি প্রিন্ট নেবার আগে একটা ফোন করে জেনে নিতে পারতে তো। এখন কি করব। কাল স্কুল খুলবে জমা দিতে হবে।
--- কেন তোর বাবা ছবি করে আনেনি? কতদিন থেকে বলছি নিয়ে এসো নিয়ে এসো সেই শেষ অবধি অফিসের কাজের বাহানা দিয়ে ফেলে রাখলো। আমাকে এখন আবার সন্তোষী মার পুজোর সব জোগাড় করতে হবে। কে যাবে। রাত নটা বাজে।
আমি একবার ছেলের মুখের দিকে একবার ওর মার মুখের দিকে চাইলাম। আমতা আমতা করে জানতে চাইলাম, কি হল আবার, কেন এনেছি তো।
--- ধূর ম্যাম বলেছে ক্রিস্টাসের ছবিতে সান্তার ছবি না আনতে। ইলিয়ট ম্যাম বলেছে সান্তাক্লস মিথ্যে। তোমাদের পেরেন্টসরা সান্তা সেজে উপহার দেয়। সব উৎসবের সত্যি ছবি আনতে হবে।
আমি আবার জামা গলালাম। সত্যি ছবি আনতে হবে।
তাড়াতাড়ি যেতে হবে। দোকানটা না বন্ধ হয়ে যায়।
ইশ্। সন্তোষীমার পুজো না থাকলে আমাকে আর বেরতে হত না।
গলির মোড়ে গিয়ে খেয়াল হল মোবাইলটা ফেলে এসেছি। বাকি কি কি সত্যি জানা হল না তো বাবলুর কাছে।
তারপর নিজের মনেই একটা দৃশ্য ভেবে ফিক করে হেসে ফেললাম।
বিশ্বাস দেশ থেকে প্লেনটা ল্যন্ড করেছে। এয়ার রিলিজিওন। বাস্তব জগতের টার্মিনাল।
একে একে ঢূকছেন দুর্গা, গণেশ, হজরত মহম্মদ, সন্তোষীমা, ক্রাইস্ট, কৃষ্ণ।
গেটে ইলিয়ট ম্যাম। চেকিন চলছে।
মে আই সি উওর পাসপোর্ট প্লিজ।
                                                                                                     HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন