অনুগল্প

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০১৮ ইং

রে লাড্ডু
সদানন্দ সিংহ  



“রে লাড্ডু, তুই কেমন চরিত্রবান মানুষ রে ? মানুষখেকোর জঙ্গল কেনোই বা তোর অ্যামাজন রে? তোর ছায়ার নিচেই তো অ্যানাকোন্ডারা থাকে রে! তোর শখের বাগানের গাছ দিয়েই তো টপ টপ জল ঝরে আকাল ঘন্টায়। তীব্র গরমে হিমেল বাতাস। নামহীন সাইক্লোন এসেও অন্য বাড়ির উঠোনে ঘুরে যায়, তোর বাড়ি মাড়ায় না। তুই নাকি অধীশ্বর ? তা বেশ ভাল। তবে তুই কেনো রে আমার যে সব ছারখার করে দিলি ? আমার সর্বনাশ করে ছাড়লি? মানুষ কাকে বলে তুই জানিস? জীব কাকে বলে তুই জানিস ? ধান কী করে ফলে তুই জানিস ? গাছ কী করে আমাদের বাঁচায় জানিস ? জানি এসব তোকে বলে লাভ নেই। তুই এখন এসব সাধারণ ব্যাপারে মাথা ঘামাস না। তবে মনে রাখিস, আমিই একদিন তোর সর্বনাশ ডেকে আনবো। ইতি – তোর শত্রু”।

ডাক মারফত লাড্ডু এই একই ধরনের চিঠি আগেও কয়েকবার পেয়েছে। এবারেও এসেছে। বয়ান প্রায় একই থাকে। পত্রদাতা যে কে তা সে জানেনা। জানতেও চায় না। তবে লাড্ডু এসবে মোটেই ঘাবড়ায় না। এসব নিয়ে সে মাথা ঘামাতে চায় না। তার মাথায় শুধু টাকার চিন্তা। গয়নার দোকান, ঠিকেদারি, প্রমোটারি, নেতাগিরি করে কাউকে ল্যাং মেরে, কাউকে ঘুষ দিয়ে, কাউকে ভয় দেখিয়ে বা আইনের ফাঁক দিয়ে সে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। এই জায়গা থেকে সে মুক্তি চায় না। এই জীবনে সে খুশি।
সে চিঠিটাকে ম্যাচের কাঠি জ্বেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কালো ছাইটাকে বাতাসে উড়িয়ে দেয়। হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া আসে। কালো ছাইগুলি কিলবিল করে উড়তে উড়তে আচমকা লাড্ডুর সারা মুখটাকে কালো করে দেয়। এইসময় লাড্ডুর পাঁচ বছরের ছোট ছেলে বাবাকে দেখে ভূত ভূত বলে দৌড়ে পালাতে থাকে। তা দেখে লাড্ডু রেগে যায়। চেঁচায়, আরে শুয়োরের বাচ্চা, বাপকে তুই চিনতে পারছিস না?
                                                                                                                                     HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন