কবিতা

ঈশানকোণ একটি সাহিত্যের ওয়েবজিন জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০১৮ ইং

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথের কবিতা   

দম্পতি



চলো দু'জনে ছুঁয়ে আসি আদিগন্ত তিসি ক্ষেত

আজ চলো নদীর পোশাকে মালভূমি পার করি

বাহুতে এঁকে নিও অ্যাফ্রোদিতির অসতী দেবীমুখ

আমিও সিঁথিতে পরে নেবো গনগনে আগ্নেয়গিরি

ঘুঙুরে জমবে বিন্দু বিন্দু ঘাম মালবেরি মরুচরে

গ্রীবায় জড়ায়ে থাক ময়ূরাক্ষী জলের অনন্ত যাত্রা

চলো আজ জয় করি তারাপথের সঘন রাত্রিটুকু

এখুনি উঠবে সূর্য, আকাশ মেখেছে দ্যাখো লোধ্ররেণু

চলো যাই বেথুয়া ডোহরীর হরিণ মেঘের জঙ্গলে

আমরা যেন লক্ষ বছরের দুরন্ত শ্যাম বালক বালিকা

জঙ্গলের হরিৎপ্রভা ভেদ করে নিঃশব্দ ফল কুড়োই

আজ দ্বিপ্রহরে বিছাবো লবণ কেশ ধূসর পৃথিবীতে

সমুদ্র অবগাহন শেষে তুমিও এসো নীল মেখে মৃত্যুতে





সে ছিলো আলোয়



অনন্ত দৃষ্টিতে সে তাকিয়েছিলো কয়েকশো বছরের পুরোনো একটি সিফিলিস ভোরের দিকে,

ঘরে তার মা টেবিলে সাজিয়েছে

আজ কয়েকগুচ্ছ শুভ্র পপিফুল,

এক প্লেট ক্লান্ত ম্যাকারনি অনাদরে ডুবে আছে চিজে আর সসে,

এক মুক্তমনা জ্যোতির্বিদ

জিওনার্দো ব্রুনো

আপনমনে বিড়বিড় করে বলছে, পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে সূর্যকে,

এটাই ধ্রুব সত্য

সূর্য পৃথিবীর কেন্দ্রে নয়

আমাদের মাটির, জলের

আদুরে নীলগ্রহ আছে

শুধু আপন কক্ষপথে সৌরজগতে,

সেই চার্চের শহরে তখন আকাশ ছাপিয়ে কুসুম রঙের এত্তোবড় সূর্য,

মিল্কিওয়েতে উড়ছে লক্ষ কোটি মেঘ চোরা স্প্যারো পাখির দল,

রোমের পাথুরে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে

এক ক্রুদ্ধ মিছিল আগুন হাতে

ক্যাম্পো দে ফিওরের দিকে,

ওদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কেঁপে উঠলো বসন্তে হলুদ হয়ে যাওয়া

অলিভ গাছের শাখারা

সেই মিছিলের পুরোধা ধর্মান্ধ ক্যাথলিক পাদ্রীরা হুংকার দিয়ে উঠলো জগত কাঁপিয়ে,

সূর্য আছে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে

ওরা হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে এলো

সেই নিষ্পাপ জ্যোতির্বিজ্ঞানীর অলীক শরীর,

বাকরুদ্ধ করতে জিহ্বায় গাঁথা হলো নিষ্ঠুর পেরেক

বাঁধলো নিশ্চল থামের সাথে

আগুনে পোড়ানো হলো

তাঁর নির্মল জীবিত দেহ

পুড়লো রৌদ্রের ইতিহাস

গোঁয়ার ধর্মান্ধরা জানলোনা

০.০০০০১৫৮১ আলোকবর্ষ দূরে সূর্যের বাস

হঠাৎ ধেয়ে আসা বৃষ্টির মিহিন রঙ

লাগলো রৌদ্রের গায়ে

মানুষটার জন্যে সূর্যও আগুনের পর্দা সরিয়ে

আনমনে মেঘ মাখলো

ওক বনের পাতারাও ঝরালো অশ্রু

সালোকসংশ্লেষের শেষে,

একা এবং সংগোপনে চোখ মুছলো

নীল চোখের মাদার মেরী

একটি বীভৎস মৃত্যুছায়া স্কার্ফের মতো

আজীবন ঝুলে রইলো মলিন হয়ে

গির্জাঘরের বারান্দার গ্রিলে

যে সমস্ত সহজমন পাখি মেয়ে

ব্রুনোর প্রেমে নিমজ্জিত ছিলো,

তারা তার চুম্বনগুলোকে শিশিরে ধুয়ে

পৃথিবীর কেন্দ্রে পুঁতে দিলো

আজ নতমুখে একদল মানুষ

আবারও মিছিলে মেলায় পা

ওক গাছের জঙ্গলে জেগে উঠেছে

পাখিদের হারানো সংসার,

ফিসফিস কথোপকথন

কম্পিউটার মনিটরে উজ্জ্বল হলো

একটি স্বীকৃত নাম

মাউস এগিয়ে চলে পরবর্তীতে

প্রত্নলিপিতে লেখা ফর্মুলায় মগ্ন দার্শনিক

জিওনার্দো ব্রুনো

দু'ফোঁটা অশ্রু তার চিবুক বেয়ে

চলে যায় মাটির গভীরে


HOME

এই লেখাটা শেয়ার করুন