mobile website builder free
জয়া গোয়ালা         পরদেশী 


গল্প           Home


এ কাজরী --- কাঁহা গেইল কালমুহী ---! ভাঙা কাঁসর আছড়ায়। আশপাশ সচকিত হয়।
রূপছায়া সিনেমার উল্টোদিকে। রাস্তার পাশে ইট-সুরকির ছোটোখাটো স্তূপ। অন্তরাল থেকে ধানশিষ-রঙা চুনরির প্রান্তটা ওড়ে। সুরকির উপরেই বসা আধগণ্ডা মেয়েমানুষ। তাদের হাতের হাতুড়ি ওঠে-নামে। ইটের ফাঁকে গাঁথা লম্বা বাঁশের আগায় ছাতা। কালো রং পুড়ে ছাই রঙা। ছাতার নিচে বসা দেহগুলোয় গলগল ঘাম। ইটের লালচে গুঁড়ো ত্বকে জবজব। জ্যৈষ্ঠর দ্বিপ্রহর। নিদাঘতপ্ত হাওয়ায় আগুন। আগুন মেয়েমানুষগুলোর মেজাজেও। কাজের ফাঁকে ফোঁস ফোঁস। হিস হিস। দাঁতে উগরানো বিষ।
ধনুকের ছিলার মতো টানটান উঠে দাঁড়ায় মেয়েলোকটি। সন্ধিৎসু চোখে জবাফুল। কর্মী হাতে আগ্রাসী থাবা। হ্যাঁচকা টানে উড়নি মুঠোয়। মালিকহীন চুনরি খিলখিলায়।
--- হারামজাদী ! পানকষা ঠোঁটে হুংকার। দৃষ্টি রূপছায়া চত্বর।
--- ক্যা ভেইলবা কাজরি কি মাঈ ? ভোজপুরি টানে বেহুদা প্রশ্ন। কাজরির মায়ের ঢ্যাঙা দেহটা ঢুকে যায় ছাতার আশ্রয়ে। তেজহীন মুখে তার বেদনা।
--- এ ছোকরি খতম হই যাবেক। ওর হাত জোরসে ওঠানামা শুরু করে।
কাজরির হিরনি বুকেও ওঠা আর নামা। গাঙের পানিতে জোয়ার-ভাটা। ভাটার টানে বুকে চরা। সাগর খেয়েছে পানি। রামচন্দর আজও এলো না।
রূপছায়ার কাউন্টারে লম্বা লাইন। মেয়ে-মদ্দ-বুঢঢা-জওয়ান। ‘কচ্চে ধাগে’-তে বাঁধা সব্বাই। ইয়া ঢাউস পোস্টারে অজয় দেবগণ-মনীষা। কাজরির চোখের কাজলে রামচন্দর অজয়ের মুখে লেপ্টে যায়। মনীষার আবির ওড়ানো চুনরি কাজরির বেপর্দা জওয়ানিটার গায়। ‘দিল পরদেশী হো গ্যয়া’------ সুরময় পলকা বাতাস আঁচলায় বিরান বুক।
পরদেশী হৃদয়টা যে এখন ঠিক কোথা কাজরি জানে না। পিয়াসী কাজরির সামনে রঙ্গিলা দুপহারিয়া শো। ওর চোখে শুধু কবুতর-কবুতরী। আর বাকুম বাকুম। তিসরা সিগন্যাল বাজে --- কাজরির টাটানো চোখ ভরা-ভরকম শাওন। ছলাৎছল গাঙের পানি টানছে বারদরিয়া। রামচন্দর না জানি কোন্ চুলায়।


গোলচক্করের এদিকটায় অনেক ঝুপড়ি। কোনো কোনোটা রাস্তার গা ঘেঁষে বড়ো নর্দমাগুলোর বুক ছোঁয়া। কিছু আবার এদিক-সেদিক চোরিছুপি। গর্দান হেলানো লাল জলের ট্যাংকিটার পিঠ-পিছে কাজরিদের ঝুপড়ি ঘরটা। একটা ডানা-ভাঙা মুরগির মতো কাত। পাশে আরেকটা। ছোটো। শহুরে বাবুদের বাবুয়ারা বলে ঝুপড়ির বাচ্চা। বাচ্চাটা আবার জবুথবু বুড়ির মতো বসে। রসুই ঘরটা তবু কাজরির ভালোই লাগে। সামনে কাঁচেলি বহ্নিশিখা। রংদার ছায়া ঘরের পর্দা। পর্দায় তখন কাজরির হিরো। ‘টেরাক’ খালাস করা রামচন্দর নয় সে, স্বপ্নের স্বপ্ননীল আসমানের রোদেল তারকা। রূপোলি পর্দার অজয়, সইফ আলির মতো প্রেমার্ত। বিরহী। দিওয়ানা।
ফিক ফিক করে হাসে কাজরি। পলাশ ফোটে ঠোঁটে। সেদিনও ফুটেছিল। অজস্র। ইট সোলিং পথ, বাঁকে গাছটা জ্বলছিল। পলাশ ফোটা গাছ না দেখে রামচন্দর দেখছিল পলাশ রাঙা ঠোঁট। থোকা থোকা হাসি। লালের বাহার। রাশি রাশি। রামচন্দরের দুহাতে দুটো চারকোণা ইট। তাতেও রক্তপলাশ গুঁড়ো।
আরেকটু হলেই থেঁতলে যেত বিশ্বম্ভরের হাত। রামচন্দরের ছুঁড়ে দেওয়া ইট সোজা ওর দিকে…।
--- বদ্তমিজ, বে --- খিস্তি করছিল বিশ্বম্ভর।
চুনরির ঘুংঘটের আড়। অবাধ্য চুলের উদ্যত ফণা। তার মধ্য থেকে চোখের কোণে কথা ফুটছিল কাজরির --- বেদরদি! রামচন্দর ট্রাক থেকে পড়তে পড়তে বেঁচে গিয়েছিল। কাজরি তো হেসেই কুটিপাটি।
লছমি, আর্তি ওর দুই সহেলিও ইটের গাদায়। ওদের চোখেও বাল্যখিল্য দুষ্টু হাসি। রামচন্দররা ফিরে গিয়েছিল ট্রাকে করে। সেই জিরানীয়া মোহনপুরে। লছমি বলেছিল --- রাধা কি মোহন, মোহনপুরমে। কাজরি দুম করে কিল বসিয়েছিল। কপট রাগে ওর নাকের পাটা কাঁপছিল। কাঁপছিল সে নিজেও ভেতরে ভেতরে। বেতসপত্রের মতো। যেমন এখন কাঁপছে। শুধুই ভেতরটা। উপরটা বেমালুম নিস্তরঙ্গ। হিল-দোল হিন্দোল কিচ্ছুটি নেই।
--- কাজরি ---- এ বিটিয়া রানি! 
বাপু মদের ঠেক থেকে ফিরল। হরব্ক্ত নেশায় টং হয়ে থাকে। কাজরির ভালো লাগে না। স্রিফ বোতল হলেও ঠিক ছিল। সাথ সাথ সিদ্ধি-ভাঙ সব চলে। বর্ডারটা ওই তো, রিক্শাটা দুদিন ঠ্যাঙালে পাঁচদিন নিজেই ঠ্যাং ভাঙা। মাতাল কিন্তু বেতাল নয়। দিব্বিসে আয়েসী মজলিশ। গোলচক্কর বাজার --- ফুলুরি কি আন্ডাভাজি আর ---
মা চেঁচিয়ে গলা ভাঙে --- কন কাম-কাজ নাহি হ্যায় কা ? হরবক্‌ত খালি দারু ঔর বকর্ বকর্। বেশরম্ কাঁহিকা।  
বাপুটা হাসে। পাক্কা বেশরমের মতো। গলায় উপুড় করে ঢালে --- ঢক্ ঢক্ ঢক্ ---। ভাইদুটো পঢ়াই করতে করতে ছট্টুর কালা স্লেটে কী সব চিহ্ন আঁকে। মোছে। গা টেপাটেপি করে হাসে। বড়ো ভাইটার নীলচে রোঁয়া ওঠা নাকের নিচটায় ঘামের ছোটো ছোটো দানা দেখে কাজরি। ভাইটাকে বড়ো অচেনা লাগে তার। ওকে এখন চোখে চোখে রাখা দরকার --- কেন যেন মনে হয় তার। এবছর পাশ দিল না।
কাজরির শ্রবণেন্দ্রিয় হঠাৎ সচকিত হয়। শুক্কুরবার চিত্রাহার চলছে। মনটা দৌড়ে যেতে চায়। কিন্তু মা দেবে না যেতে। ও যেখানে রোজ ভোরে জল দেয়, সে বাড়িতেই টিভি চলছে। গান খুউব ভালোবাসে সে। এ গান কখনো হাসায় কখনো কাঁদায়, কখনো মনকে ভিজিয়ে দেয়। আবার কখনো ঘর ছাড়া বিবাগী করে দেয় তার মনটাকে। লছ্‌মি, বাসন্তীরা বলে--- পাগলি। নইলে গান শুনে কেউ উদাস হয় ? মন খারাপ করে মরতে চায় ? আরও একটা কাজ যে আজকাল করতে ইচ্ছে করে কাজরির, ওরা তা জানে না। কাউকে যে বড়ো কাছে পেতে ইচ্ছে করে তার। খুব ইচ্ছে করে। এই যেমন এখন কাউকে দেখার প্রবল ইচ্ছে ওর বুকের গভীরটায়। ওঃ! কাজরি কানে হাত চাপা দেয়। রোজই তো আসছে ট্রাক। ও কেন আসছে না ? কাজরির বেবাক ফাঁকা দিলটা ধড়কায়। গোলাপ কুঁড়িটা এখনও সযতনে রেখেছে কাজরি। ছুপতে ছুপাতে খালি ট্রাকের ওধার থেকে ওর বুকে এসে আছড়ে পড়েছিল সেটা। শুকিয়ে গেছে সে কলিটা। কাজরির বুকে বেদম ঢেউ। বেধরক্ নাচছে গাঙের পানি…।


চুপকে চুপকে আর্তিই বলে --- কিষাণোয়া কে হাত্‌মে তুহার চিট্‌ঠি। 
কাজরির মুখে লাল সূর্য। তেমনি রাঙা। তেমনি উজ্জ্বল। কুহেলিস্নাত। সিঁদেল বার্তায় উচাটন মন।
ছড়ানো ছাতার তলে শ্যামশ্রী কাজরি, চোখের পল্লব নোয়ানো। তাতে অলস স্বপ্ন। সুনিবিড় করোষ্ণতায় বিলজ্জ দেহলতা। হাতুড়ি ওঠাতে গিয়ে চমকায় --- কিষাণ। সকলের অলক্ষে কাজরির পদতলঘেঁষা কাগজটা উড়ে আসে। কিষাণের ঠোঁটে কৌতুক। ‘ফক্কর’ --- কতদিন বলা কথাটা আজ মুখে যোগায় না কাজরির। হাতের বেড়ে বাহারে স্বপ্ন। এই থিকথিকে জায়গায় স্বপ্নভঙ্গ --- না না। বুকের নিরালা কোণে চালান হয়ে যায় চিঠিটা। ফুলেল ছোঁয়া লাগে।
একটু দূরে কিষাণরা। ভ্রূ কুঁচকায় কাজরির। ওরই চিঠি নয়তো? কতদিন কৌসিস করেছে কীসব বলার। পাত্তা দেয়নি কাজরি। কী দেবে, ফিচেল একটা। আজ কোনও বাঁদরামি করেছে কিনা কে জানে ! কাজরির বুকে লেপটানো কাগজটা খচমচ করে। মদালস দিনটায় মদোগন্ধ। কাজরি আতঙ্কগ্রস্তের মতো স্বপ্নের বিনুনি খোলে, খোলে প্রায়। শেষতক চিঠিটা খোলে। কিন্তু আন্ধেরা।
উষ্ণচালের ভাতের গন্ধ দমকায়। রসুইটার চান্দিনী রাত ডিগবাজি খায়। ক-ছিলিম গাঁজা খেয়েও পেটে হাতুড়িপেটা চলছে বলে বাপু নাক কুঁচকে কিছুর উৎস খোঁজে। ঘর উথলানো বাস--- তন্দ্রিত ভাইদুটোকে হেঁচকা টানে। আড়মোড়া ভাঙে ওরা। শিকারি কুকুরের মতো মা নাক টানে, শোঁকে আর চুল্‌বুল করে। চুলহায় হাঁড়ি। জলঝরা শুখা থালিগুলি ঝিকমিকায় সারি সারি।
কাজরি মন আর পেটের দূরত্ব মাপে। কাঁচা মাছ ভাঙা এনামেলের বাটিটায়। দুদিন জব্বর বৃষ্টি। নালা ছাপিয়ে জল ঘরবারে।পথেঘাটে। ঘোলা জলে মাছের বাজার। ভাই দুটো ধরেছে সেই সকালবেলা। পচাটে গন্ধ মাছগুলোর গায়। কাগুজে গন্ধটা তেমন জোরালো নয়। কাঠগুঁড়োর উনুনের দিকে তাকিয়ে উসখুস করে কাজরি। কেরোসিনের ঢিবিটার তলানিতে এক ফোঁটা তেল। খাওয়ার সময়ের আলোটুকুর জন্য। এখন অবশ্য আলোর দরকার। মাছই কুটুক কিংবা--। আঁশটে গন্ধটায় ভেতরের খিদেটা চাগায়। বুকের কুঠুরিতে সযত্ন রক্ষিত কাগজটা পোড়ায়। তবু বাটিটাই টেনে নেয় সে।
ম্‌ছলির সুরুয়াটায় নিমকের কমি খুঁজে পায় কাজরি। কাগজি-বু তার চাদ্ধারে। কিন্তু আলো—ঢিবির মুখে ধোঁয়ার ফোয়ারা নিঃশেষ। তলানি ঠন্‌ঠন্‌। কাজরির মুখেও ধোঁয়ার কালিমা। বেকাবু মনটা ভোরের আশায় বুক বাঁধে।


কুলো উপুড় করে রোদ ঢালছে কেউ। বিবর্ণ ছাতায় হাজার ফুটো। ঝাঁঝরির মতো। কাজরি ঘেমে তেতে একসা। হাতের হাতুড়ি বেসুরো। বেতাল। মুহূর্মুহূ ছন্দপতনে টালমাটাল। হাতখানেক দূরে একজোড়া কবুতর-কবুতরি। এখান থেকে রূপছায়াটা আর দেখা যায় না। সোরগোল বাজে। ঝটকা মেরে কাজরির কানে বাজে অন্যকিছু---
প্রথমদিনের সেই দু-চারটে কথা। পাশাপাশি বসে ধীরে ধীরে ঘামের জোয়ারে সিনান। রামচন্দর বড়ো অগোছালো। গুছিয়ে কথা বলতে শেখেনি। শুধু বলেছিল--- গানঠো কেইসা হ্যায় ? পর্দায় বাজছিল --- ‘তেরে গালো পে যো কালা তিল হ্যায়, ওহি মেরা দিল হ্যায়…’। কাজরি দুহাতে মুখ ঢেকেছিল। রক্তাভ গালে, কুন্তলচূর্ণের ফাঁকে উঁকি মারছিল একটা কালো তিল। রামচন্দর দৃষ্টি ফেরায়নি। ওর চোখে মুগ্ধতার দাগ। ঠোঁটে কতকালের পিয়াস। কাজরি দেখছিল। আঙুলের ফাঁকে ভীরু চোখ। ডরোডরো বুকে থরো থরো কাঁপন। কম্পমান হৃদয়-খাঁচায় লাব্ডুব্ শব্দটা আজও বাজছে কাজরির কানে, আর রামচন্দরের মনচোরা শানদার হাসির অনুরণন – তার কথালাপ, সেই অর্ধস্ফুট অসংলগ্ন কথা, স-ব।
মেয়ে দুটি চলে যায় সিনেমা হলের দিকে। গোলমতো ছেলেটির হাতে বব্কাট মেয়েটির হাত। ওদের দামি জুতোর হাই হিল পিচ ঢালা পথে পথে আওয়াজ তোলে--- খট্ খট্…।
কাজরির বুকের উপত্যকা খট্খটে। বিল্‌কুল শুখা। চিট্‌ঠিটাতে লেখা --- শিগগিরই আসবে। কিন্তু কবে, কাজরি জানে না। ও এও জানে না বিহার দেশটা ঠিক কোথায়। কোথায়-ই বা পাটনা। শুনেছে সে দেশ কাজরিদেরও। যায়নি কখনো। বাপুই দেখেনি। জনম করম সব এখানে। বাপু বলে বহুত্ দুরের দেশ। পরদেশই বলা যায়। রামচন্দর পরদেশী বনে গেছে।
কাজরির হাতুড়ি ওঠে নামে, ধীর লয়ে। ইটের গুঁড়োয় ওর টুটা-ফুটা স্বপ্নরা ভেঙেচুরে রক্তাক্ত হয়। রক্ত ভেজা জান্তব শব্দ --- ইন্তেজার। ওর জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে সে। কাজরির মন কেঁদে বলে--- করব, জরুর করব।
--- লেকিন কিত্‌নে দিন ? আর্তির সওয়াল অমূলক নয়। কাজরিও ধন্দে। উত্তরহীন ধাঁধা মগজটায়। দূরাশায় স্পর্ধিত অভীপ্সা মন জুড়ে। সামনে অকূল দরিয়া--- পালভাঙা নৌকো দিশাহীন। আনমনা ব্যাকুল বুকে কিসের মধুসংকেত। আবার দহন-জ্বালাও। সংশয়ের বাঁধ ঠেলে স্বপ্ন বিভোর কাজরি হাতুড়ি ঠেলে। মনের দিগন্তে পরদেশী সুর। জীবন্ত স্মৃতির ঝাঁক মিটমিটায়। মনকে খামচায়। বাতাস এলোমেলো। মন অগোছালো। ইটের গুঁড়ো ওড়ে। ভালোবাসার পরবাসী রঙের মতো মনে কাঁদন জাগায়। অশ্রুর কোন রং নেই কাজরি জানে। ইট গুঁড়োর অশ্রুজল লাল লাল লাগে। ঠোঁটের কিনারে নিমকের সোয়াদ।কাজরি চোখের জলে রক্তের প্লাবন দেখে।


রূপছায়া চত্বরে অনুসন্ধানী চোখ এখন যায় না আর। চুনরি আর লুকোচুরি খেলে না মায়ের সঙ্গে। মা তবু বকবকায়--- লেড়কিঠো খতম হই গেইল। তন্বী কাজরির ভাঙা দেহ জরিপ করে করে পড়োসন মওসি শাদির কথা পাড়ে। কাজরি চোখ বোজে।গাঙের পানি আটকায় না। মরমী কোন্ পরশ আকাঙ্ক্ষায় তড়পায় কাজরি।
লছমি আর্তিরা ইটখোলায় চলে গেছে। বাপুটাও যেতে চায়। মাও অরাজি নয়। ঠেকিয়ে রেখেছে কাজরিই তালবাহানা করে করে। ওর হৃদয়ের প্রত্যন্ত প্রদেশে এখনও আশার বাসা। নীরব ছোট্ট একটা পাখির খোঁড়ল। নীড় বাঁধা স্বপ্নের আঙিনা হা হা। শুনশান। তবু স্বপ্নালু বাসর সাজানোর অপেক্ষা…।
শহরের প্রান্তসীমায় আর এক পরদেশ মিলিয়ে যায় তমসায়।
জোনাকির টুপটাপ জ্বলানেভা। আশ্চর্য বিজুরি নাচন। কাজরির বাঁধনহারা ভালোবাসা জ্বলে নেভে। নেভে আর জ্বলে। একসময় জোনাকির আলো-আঁধারি খেলা ছেড়ে চান্দিনী রাত বনে যায়। মিঠে জোছনায় উদাসী সন্ধ্যা কোমল রাগে গান ধরে। বিরহ বিচ্ছেদের করুণ সুরে কাজরি ডুবে যায়।
ওর হাতুড়ি পেটা হাতটায় কাগজের খসখস। বড়ো মোলায়েম। বড়ো মধুর। সাঁঝের বিরহগীতিতে কানে বাজে সেই চেনা সুর --- ‘দিল পরদেশী হো গায়া…’। কাজরির বুকে গাঙের পানির ভাঁটার টান। সাগর খেয়েছে পানি ---- রামচন্দর ফিরে আসবে তো !
কাজরি জোয়ারের প্রতীক্ষা করে…।


                                                 HOME
 

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]