easy website maker
এবারের ভাষাসাহিত্য সম্মান কথাসাহিত্যিক দুলাল ঘোষ এবং অনুপ ভট্টাচার্যকে যুগ্মভাবে দেওয়া হল। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকার।  

মুখোমুখি     Home         
কৃত্তিবাস চক্রবর্তী 
এবারের ‘ভাষাসাহিত্য সম্মান’ ২০১৬ প্রসঙ্গে


হয়তো বয়েসটা কম ছিল বলে সংগীতকার শংকর-জয়কিষাণ যে দুইজন ব্যক্তি তা আমার অনেকদিন জানা ছিল না। পরবর্তী কালে কল্যাণজী আনন্দজী যে দুজন ব্যক্তি তা আমার প্রথম থেকেই জানা ছিল। কিন্তু অনুপ-দুলাল যে দুজন ব্যক্তি তা সবারই জানা ছিল। কিন্তু সবাই একত্রে দুজনের নাম অনুপ-দুলাল বলে উল্লেখ করতেন। অনুপের আলোচনা হলে দুলালের আলোচনা হবেই কিংবা দুলালের আলোচনা হলে অনুপের প্রসঙ্গ আসবেই। প্রায়সময়েই ওঁদেরকে দেখাও যেত একসঙ্গে। হয়তো কর্মসূত্রে একই অফিসে ছিলেন বলে বা হয়তো পাশাপাশি বাড়ি করেছিলেন বলে। অনেক কিছুতেও দুজনের মধ্যে খুব মিল। এত মিল যে ওঁদের দুজনের মধ্যে ঝগড়ার কথা কেউ চিন্তাও করতো না।
এবারের পঞ্চম ভাষাসাহিত্য ২০১৬ সম্মান আলাদা আলাদা করে না দিয়ে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই যৌথভাবে অনুপ ভট্টাচার্য ও দুলাল ঘোষকে দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ত্রিপুরার সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিরলসভাবে অবদান রেখেছেন এমন গুণীজনের সংখ্যা কম নয়। মূলত ত্রিপুরার সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের বিনীত স্বীকৃতি জ্ঞাপনার্থেই “ভাষাসাহিত্য সম্মান” প্রদানের এই উদ্যোগ। স্বক্ষেত্রে যথেষ্ঠ যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন, ধারাবাহিকভাবে স্বীয় সাহিত্যদর্শন, জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠা করে পাঠক এবং সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিবর্গের সমীহ ও অনুরাগ আদায় করতে সমর্থ হয়েছেন এমন ব্যক্তিকেই “ভাষাসাহিত্য সম্মান” দেওয়ার জন্য ভাষা ট্রাস্ট-এর সদস্যগণ স্থির করেন। সেজন্যে জাত-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-ভাষা ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়না।

অনুপ ভট্টাচার্য প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাঃ


জন্মঃ ২রা এপ্রিল ১৯৪৯
জীবিকাঃ ১৯৭৩ সালে আগরতলা এ জি অফিসে কাজে যোগদান করেন। অবসর নিয়েছেন ২০০৯ সালে।
লেখালেখিঃ অনুপ ভট্টাচার্যের লেখার শুরু হয় ১৯৬৫-৬৬ সালে। শিলং থাকাকালীন প্রথম গল্পটি লেখেন অসমীয়া ভাষায়। গল্পের নাম ‘ঘুড়ি’ প্রকাশিত হয় গৌহাটিতে। সেইসময় প্রচুর কবিতাও লিখেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই একধরণের বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনুপের মধ্যে। মুল্যবোধের অবক্ষয়, সমাজজীবনের অবমূল্যায়ন তাঁকে পীড়িত করেছে জীবনভর। তাঁর লেখা মধ্যে আছে রূপক ও প্রতীকীর মিশ্রণ। তিনি গল্প লিখতে গিয়ে গল্প আঁকতেন। ফলে পাঠকের কাছে তাঁর লেখাগুলি ছবি হয়ে উঠেছে। এছাড়াও তাঁর অনেক লেখাই ছিল নিরীক্ষা ধর্মী।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ গল্প – পাখি ও পালক, ছবি মানুষ। উপন্যাস – প্রিয়ভূমি, নিরন্তর পরবাস। বেতার নাটক – জলোচ্ছ্বাস। টেলিফ্লিম – স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন। কাগজ – যৌথ সম্পাদনায় পদক্ষেপ, পাঁচ ছয় ক্রীতদাস।

দুলাল ঘোষ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাঃ


জন্মঃ ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৫০ ।
জীবিকাঃ ১৯৭৩ সালে আগরতলা এ জি অফিসে কাজে যোগদান। অবসর ২০১০ সালে।
লেখালেখিঃ সত্তর দশকের গোড়ার দিকে লেখা শুরু করেন। তাঁর লেখায় আছে এক অনুসন্ধানী দৃষ্টি। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই গোয়েন্দাসুলভ। সারাজীবন মানুষের মুখই নিখুঁত ভাবে আঁকার চেষ্টা করেছেন। গল্পের আশ্রয় রূপক। নিরীক্ষাধর্মী লেখা প্রচুর।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ গল্প – সমপরিমাণ মাটি। উপন্যাস – অগ্নিসূত্র, ছদ্মবাস।
কাগজ – যৌথ সম্পাদনায় পদক্ষেপ, পাঁচ ছয় ক্রীতদাস।

“… আমি তোমাদের মানি না। প্রচণ্ড প্রাণপ্রাচুর্য নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। তোমাদের চিন্তায় মোটেই বিশ্বস্ত নই। আমি জানি এখনো বেঁচে আছে অনেক পাখি-নদী-আকাশ-নারী …”
- অনুপ ভট্টাচার্য।
“… আমি সুন্দরের পেছনে ছুটিনি কখনও। আড়ালে অসত্য, অসুন্দর ও মুখোশ খুলে ফেলার নেশা আমার কিছুতেই কাটতে চায় না। …”
- দুলাল ঘোষ

                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]