best website builder for mac

কবিতা            Home        
প্রত্যুষ দেবের দুটি কবিতা



অভিমুখ

একবার গোলাপ দিলে অন্যবার বারুদের ওম
বিষাদ জঙ্গলে একা হৃৎপিণ্ড রেখেছ চক্রবূহ্যে
সরীসৃপ অন্ধকারে রাত্রি-ব্যাধ তোমাকেই ডাকে
অরণ্যের আহত কুসুম

অরণ্য জেনেছে আজ তোমার দস্যুতা যত
পাহাড় জেনেছে তুমি গোপন ঘাতক
সমতলে তবু আজ রাখালিয়া বাশিঁ ডাকে তোমাকেই
ডাকে সরু আলপথ ধানখেত গেরস্থালি জ্যোৎস্নানগর
ডাকে শূন্য খেয়াঘাট প্রিয় নারী শুশ্রূষার নদী
আরও ডাকে পল্লবিত বসন্তের ধ্বনি
বারুদের শব্দে তুমি বধির হয়েছ বলে
মুগ্ধতার সেই ডাক এখনও শোননি

পারো যদি স্পর্শ করো বিস্তীর্ণ উর্বর মাটি, জুমের সবুজ
পারো যদি স্পর্শ করো মানুষের করতল আর দৃপ্ত পায়ের মিছিল
আঁধারের যে দুর্গ নির্মাণ করেছ তুমি দিকশূন্য ভুলে
সেখানে জোছনা রচনা করো আজ প্রত্যয়ের বিন্যস্ত আঙুলে।



অন্ধকারে যারা যাবে, যাক

চারদিকে এত আলো ছড়ানো রয়েছে
তবু যারা অন্ধকারে যেতে চায় তারা যাক
আমাদের রৌদ্রস্নাত কারুকৃতি আর প্রতিশ্রুত চারুবাক
নিশিদিন স্তুতিময় উজ্জ্বল আলোর কাছে এখনও, এবং
উজ্জ্বল রেখেছ আজও প্রিয় মাটি আর প্রিয় পতাকার রং

আমাদের স্বাধীনতা আজ আর শাণিত শোণিত দৃষ্টি ভয় পায়নাকো
নষ্টনীড়ে বসে তুমি দুই হাতে আগুন ধরে রাখ
দহনের দিন রাত্রি কি করে ফেরাবে তুমি আমাদের পুণ্যশ্লোক প্রতিজ্ঞার কাছে
যার ভাষা শিশিরের মুগ্ধতায় ঘাসে ঘাসে ভোরের আলোর মতো নাচে
যার ভাষা নগরীর রাজপথ অলিগলি খিড়কির দুয়ারে
গ্রামে গঞ্জে মাঠে ঘাটে জল মাটি মানুষের ঠোঁটে
অনিবার্য আকাঙ্ক্ষায় প্রতিদিন রাশি রাশি প্রদীপের মতো জ্বলে ওঠে

আঁধারের প্রান্তদেশে অনন্ত আদিম চোখ যাহাদের উঁকি দিচ্ছে দ্রুত
সেই লোভ সেই তৃষ্ণা সেই কালো নিশিডাক বহুচেনা আর বহুশ্রুত
প্রতিটি উন্মাদ-রাতে ছোবলে উদ্যত যার সাপের ফণার মতো হাত
তাহাদেরও চারিদিকে আমরা রেখেছি আজ প্রশান্তির মুগ্ধ রজনী আর
সকালের সূর্যস্নান, উজ্জ্বল আলোর ঘোড়া, বর্ণময় জলের প্রপাত

এতো আলো চারিদিকে দ্যুতিময় মানুষের বিপ্লবের ঋণে
এত আলো চারিদিকে জোছনায়, এত আলো সূর্যকিরণে
তবু যারা অন্ধকারে মিশে যায়, মিশে যেতে চায়
অন্য কোন লালসার ইশতেহারে, অন্ধ ক্রোধে, অসুস্থ দ্বিধায়
তারা ফিরে যেতে পারে অন্ধকারে, ফিরে যাক সব
আমাদের চারিদিকে মানুষের দ্যুতিময় জীবনে রয়েছে
স্বপ্নগন্ধা অনির্বাণ আলোর উৎসব।
  

                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]