website maker free

কবিতা            Home    
সুতপা রায়ের দুটি কবিতা


নবান্ন 

তুমি এসে গেছ, বসো
বসে যাও পসরা সাজিয়ে
যেভাবে বসতে চাও ।
অগ্নিপৌরুষ, উদ্ধত অহমিকা
ভিজবে এবারে ।
তোমার উচ্ছ্বাসে তরঙ্গে আমি শুনি
পতনের ধ্বনি
আছড়ে পড়ো বুকে মুখে ও মজ্জায়
সিক্ত কর, কর ভারমুক্ত ।
আমিও পুড়িয়ে দেবো দেব
সীমার সংকট
সকলেই ভুলে যাব
বিবাদের নানা মারপ্যাঁচ
মুখ কালো গোমড়া আকাশ
ধুয়ে মুছে স্বচ্ছ সুন্দর
এবার নবান্ন উৎসব আমাদেরও হবে ।



উদ্ধত শাখা ভেঙে গেলে

যেতে যেতে একবারও দেখোনি নিজেকে
দেখোনি ডাইনে-বাঁয়ে
পশ্চাতে পড়ে থাকা পলাশের লাল
উড়ে যাওয়া যত্নহীন বিক্ষিপ্ত শিমূল,
তোমার ক্রোধের পর বয়ে যাওয়া জলধারা,
বিলাসী জ্যোৎস্নারাতে দেখোনি ---
উৎকণ্ঠায় অপলক দু’টি চোখ ।
কী করে দেখবে ওসব !
এখনো যে দেখোনি নিজের শ্রমক্লান্ত সুখ
এখনো শুধুই জানো –
এরপর তোমার প্রতি কার কী করণীয় কাজ

হাতের লাগাম ঢিলে হয়ে এলে
অশ্বের গতি কমে যায় এবং
আস্তে আস্তে কমে যায়
ঝরে পড়ে পলাশ, শিয়রে শিমূল
তুমি নামতে থাকো
নামতে থাকো একটু একটু করে প্রেমে
তোমার পশ্চাতে, ডানে ও বামে
তখন দুঃশাসনের ভিড়
শাড়ির প্যাঁচগুলি সব প্রেমহীন হলে
কত নিচে নামতে হবে ভাবোনি কখনো

বহিরঙ্গের উদ্ধত শাখা ভেঙে গেলে
অন্তরঙ্গে রুক্ষ্ম মৃত্তিকায়
ঢালো জল জল
শীতল শীতল
  

                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]