website building software

কবিতা            Home           
চয়ন ভৌমিক




আদালত ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি 

কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু টাগরায় আটকে যায় জিভ। শব্দেরা অর্ধেক বেরিয়ে হারিয়ে যায়, গতানুগতিক ভিড়ে। কী অসম্পূর্ণ আর অব্যক্ত আমার ফুসফুস-জোড়। কী দগ্ধ যন্ত্রণায় আর্ত, কৃষ্ণকায় আমার হৃদয়ের অলিন্দ, নিলয়। অসংখ্য মৃত শব্দের অবিনশ্বর ছাই নিয়ে পূর্ণ আমার রত্নকুম্ভ। এই দেখো স্নায়ুর স্যাঁতস্যাঁতে ভাঁজে কিরকম বেড়ে চলেছে, ছত্রাক আর মিথোজীবি “খ্যাতি-লিপ্সা” স্বর্ণলতা। অসুস্থ রক্ত নিয়ে কারা ওই ঘুরতে থাকে পথে, ডাক্তার দেখিয়ে সোজা চলে যায় - গণিকালয়ে অথবা শুঁড়িখানায়। প্রতিদিন জন্মের অছিলায় মৃত্যুই ভবিতব্য এই জীবনের হে বোধিসত্ব। শব্দভেদী বাণ এভাবেই ছিন্নভিন্ন করে দিতে থাকে রোদ আর চাঁদের পাহাড়কে, প্রতিদিন প্রতিরাত। প্রতিবাদহীনতায় পাথরের আত্মজীবনী লেখা হতে থাকে, দেবতার এজলাসে। আয়নায় কয়েদ হয়ে যাই আমি এইসব গুমখুনের দায় নিয়ে। মুখোশ পরে যে অক্ষর লিখে রাখি, মুখবন্ধে বা মলাটের ভিতরে সযত্নে গড়ে তোলা নাটকের সংলাপ সেসব। এইতো পাপ, এই হুজ্জতনামাই ক্ষয়। অদৃশ্য হয়ে গেলে আমার ছেড়ে যাওয়া জামাকাপড় পুড়িয়ে এই অতৃপ্ত আত্মাকে শুদ্ধ করে দিও কেউ। আমার না বলা শব্দ লিখে রেখেছি আমি। সেই পান্ডুলিপিও ছিঁড়ে বিলীন করে দিও পঞ্চভূতে।
  

                                                  HOME


[এই লেখাটা শেয়ার করুন]