best site builder

কবিতা            Home      
বিমলেন্দ্র চক্রবর্তীর চারটি কবিতা 



হলংসিকি

হঠাৎ ফোন করলেন মাধব, চলে আসুন ---
মান্দাই থেকে প্রায় তেইশ কিলোমিটার, নির্জন অরণ্যপথ, উৎসব হলংসিকি। 

বনফুলে ঝিঁঝিগুলো কথা বলছিল কয়েকটি ঘুঘুর সাথে
পিঠে খোকা, ঘুমে ঢুলুঢুলু, শূন্য কলসি মাথায় বাঁদিকে হেঁটে যাচ্ছিল মা
ডানদিকে আনমনা তরুণ সৈনিক কাঁধে রাইফেল
সবুজে শ্যামলে ছবি আঁকছিলেন একমাস আগে বিয়ে করে রেখে আসা
গুজরাট সুন্দরীর মুখ
একটা প্রজাপতি পাখা খুলে, বন্ধ করে চুমু খাচ্ছিল ফুল।

পথ ফুরিয়েও ফুরিয়ে যায়নি পথ –
একটা ছোট্ট টিলা, ইতিহাসের কালো স্মৃতি যাকে
বোবা করে রেখেছিল অনেকদিন
এ উৎসবে আজও তার সারা অঙ্গ ভেজা, পশুপাখির
যে রক্তের স্রোত বেয়ে ওপরে উঠে তাকিয়ে দেখি
তার অন্তরে এক অদ্ভুত পাথর, ধ্যানমগ্ন
খোলে কীর্তনে নীরবে শান্তির বার্তা নিয়ে ক্রমাগত
বেড়েই চলছে……

তাকে প্রণাম করতেই ও আমায় জড়িয়ে ধরে –
‘বাবা, আমি আর রক্ত চাই না, আমায় দুটো চকলেট দে’


তুমি বলেছিলে

মাটিতে কান পেতে একদিন তুমি বলেছিলে
জান, মাটি কথা বলে
নদীর কাছে গিয়ে যেমন বলেছিলে
জান, নদী গান গায়
গাছের ডালে পাখি দেখে বলেছিলে
আচ্ছা, পাখি গাছের কি হয় ?
তেমনি এক বিচিত্রানুষ্ঠানের শেষে বলেছিলে
হাততালি কি ছুঁতে পারে জীবন ?


আ-কথা কু-কথা

আগে শুনতাম গরুর লেজে ধরে বৈতরণী পারের কথা
এখন দেখি গরুর লেজুড় ধরে উর্বর চারপাশ
তেরো পার্বণ বারোমাস
মাঝখানে যারা তারা শুধু কাটে ঘাস
তেরো পার্বণ বারোমাস।


স্রোত

মেজো বয়সে সেজো ঠাকুরপোর সাথে
লাই লাই খেলতে গিয়ে
নদী হয়ে গিয়েছিল শেফালি
আমাদের নদীগুলো যেমন ঘন বর্ষায়
নারী হয়ে ঋতুবতী হয়।

  
                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]