best site builder

কবিতা            Home      
সদানন্দ সিংহের চারটি কবিতা



ঐকতান

সাইপ্রাসের একতাল মুদ্রায় মুখ ডুবিয়ে
লোকটি বলে, রাজা ছিল কার ? বোধোদয়ের ?

মানুষেরা তখন গিলে গিলে জল খায়। ঢোক গিলে।
শকুনেরা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় শকুনেরি শব, চোখ ওপড়ায়।

ছায়া হয়ে গেলে হেভী রোলার চালায় স্যামসন
এইখান দিয়ে হেঁটে যাবেন রানি এলিজাবেথ

পথে শধু পড়ে থাকে শয্যাসন, শৌর্যের এক ফোঁটা নির্বাসন


আগেই কোনদিন যখন

জোয়ারের তোড়ে নদীর ভাঙা তীর আরো ভেঙে যায়
ঝুটো মুক্তোই ভেসে ওঠে
মূর্ত মানুষের জঘন্য ষড়যন্ত্রে তাজমহলের মাথায়
পথহারা অচিন পাখি মাথা কুটে মরে
নিঝুম রাতের বাঁচাও চিৎকারে খোঁড়া ভিখারি গড়িয়ে পড়ে
দুপুরের প্রখর রোদে ইনফরমেশন সেন্টারের বারান্দায় 
বেশ্যাদের গুটিয়ে শোয়াটা তোকে গম্ভীর করে তোলে

তোর হৃৎপিণ্ড কাঁপে, তোর চেতনাও কাঁপে
হাতের পাঁচটা আঙুলের চাপে রক্ত নিংড়ে বেরুয়
আবার ঢোকে, আবার বেরুয়
শেষে নিশ্চেতনার বৃত্তে যখন হার্টফেল হয়
তখন মরা গাঙে কে আর নাও ভাসায় ?

আগেই কোনদিন যখন আত্মহত্যা হয়েই গেছে


মহাকাল বিষয়ক

সমুদ্রকে গ্রাস করতে সারারাত ধরে জেগে রইলো অন্য এক মহাকাল
আমাকে বলা হল হাত ধুতে, আমি ধুলাম
আমাকে বলা হল যাবতীয় কেশ ধুতে, আমি ধুলাম
সচরাচর যা হয়ে থাকে, নৈসর্গিক কোনও মাকড়সার স্তূপ
বহুকাল হিম হয়ে থাকে
আর বরফ কেটে কেটে তরি হতে থাকে পাহাড়ি-মৃত্যু

মাটি থেকে উঠে দাঁড়ায় প্রহরের পিতা, হরেক কংকাল
প্লেকার্ড হাতে মিছিল করে, ডিগবাজি খায়
শকুনের হৃৎপিণ্ডে চলে কাটাকাটি --- অপারেশান

তবে এখানে শধু হিলিয়াম নিয়ন আরগনের রাজত্ব

এসব শুনে মহারাজার মন্তব্যঃ সেই মাছের চাবুকটা কই ?

তবু ধীরে ধীরে সন্ধে নামে, সুযোগের সন্ধানে বসে থাকে সেই মহাকাল


ভালোবাসা

প্রেয়সীর সুন্দর মুখে আমি এঁকে দিই
           এক ফোঁটা বুভুক্ষ মানুষের রক্ত।
প্রেয়সীর মোলায়েম হাতে এঁকে দিই
           কোন সর্বহারা চাষির প্রান্তিক ঘাম।
প্রেয়সীর আদুরে দু’কাঁধে আঁকি 
           কোন রণক্লান্ত শ্রমিকের দু’হাত। 
প্রেয়সীর উদোম পিঠে আঁকি
           ভারতবর্ষের এক মানচিত্র।

নগ্ন করে দেখি বারবার; শিহরণ জাগে।
শিহরণ জাগে শিরায় শিরায়, শিহরণ জাগে রক্তে।

ভালোবাসা আছে ছড়িয়ে কতো জায়গায়, 
কতো বিস্তার   কতো প্রান্তর    কতো পাহাড়ে। 


                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]