easy website builder

কবিতা            Home  
লক্ষণ বণিকের তিনটি কবিতা



জলাগ্নি

যথাযথ স্থানে না বসালে খোলতাই হয় না কোনো চরিত্র
আক্রমণ কি রক্ষণ সামলে একে অপরকে বাড়িয়ে দেবে সহায়তার হাত
সে তো তখনই যখন নিজে নিজেকে গুছিয়ে নেবার পূর্ণ কুশলতা
অর্জন করে নেবে প্রথম

জলকে জলের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়
আগুনকে আগুনের
আত্মজের জন্যে সুনির্দিষ্ট স্থানেই ওকে সুন্দর দেখায়
বৃদ্ধকে বৃদ্ধের
মাকে ঠিক মায়েরই ভূমিকায় মানানসই
বাবার ভূমিকাই বাবাই অদ্বিতীয়

এই যথাযথ সম্মান, যথাযথ পরিকাঠামো নির্মাণ
পূর্ণ উপযোগিতা লাভের একমাত্র চাবিকাঠি
সৌরজগতের গূঢ় সূত্রাদির মতো অমোঘ সামাজিক দস্তুর
যাপন-স্বাচ্ছন্দ্যের বূহ্য বিন্যাস।
এখানে দক্ষতা বিকল্পহীন, মগরামি অপাঙ্‌ক্তেয়
ভাগ্যসহায় সুদক্ষরাই যুদ্ধজয়ীর শেষ হাসি হেসে আসছে চিরকাল

আগুনও জলকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে চলে
আগুনের সহায়তায় ছুটে যায় জল নির্নিমেষ
প্রয়োগকুশলতার কাঁধে ভর রেখে সৃষ্টি হয় মনোরম জলাগ্নি।


পরিচর্যা

পরিমাপ জানিনা অথচ দিনভর সহজ পাঠমালা পিঠে ক্রমাগত পরিচর্যা সারি, নিজেকে যতো পারি সহজ করে গড়ি গড়ে নেবার পথ কখনো সুমসৃণ নয়; তবুও এইসব কাঠিন্য ভেঙে হাঁসের মতো ডুবে ডুবে পুকুরের জলে তলার শামুক তুলে উদরস্থ করি। ডিম দিতে পারার মতো সাধারণ প্রাকৃতিক কর্ম অন্য কিছু নেই, প্রভুর চাহিদা পূরণও ভৃত্যের অবশ্যকর্তব্য; আর শামুকের অন্তস্থ নির্যাস হজম পরিপাক প্রণালীরও সরল সহজাত প্রক্রিয়া বিশেষ।
মানুষের মতো রাজ্যের কৌতূহল অন্য কোন প্রাণীর নেই, অনর্থক তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ আপন আপন ক্ষমতা ভুলে ঐতিহ্য ভুলে মোরগের প্রায় উন্নত দাদা দেশসমূহের দিকে কৌতূহলী ও লোলুপ দৃষ্টি ফেলে হ্যাংলার মতো সব ধরা পড়ে যায় শক্তিমত্ত ও শেয়ালসদৃশ্য কৌশলীদের চোখে কেবল ম্লান মুখ হয়ে ওঠে আরও ম্লানতর, ঋণে জর্জর নোয়ানো মাথা বাঁকানো পিঠ সোজা হয় না। রপ্ত হয়ে ওঠে না সহজতর পাঠও। সহজ-সরল হয়ে ওঠা দূর অস্ত বরং জটিলতার দিকে আরো আরো দ্রুত হেলে পড়ে, মোড় নেয় ড্রাগ আক্রান্ত রোগীর মতো।

পরিমাপ জানি না, দিনভর সহজ পাঠমালা পিঠে সুদিনের আগমন অপেক্ষায় ক্রমাগত পরিচর্যা সারি।



প্রবেশ নিষেধ

ফ্যাশান প্যারেডের জৌলুষ পরখ করে নিজের শরীরে
অনুপুঙ্খ তুলে আনবে বলে যে মেয়ে
তামাদি করে ফেলে সারা দিনরাতের বাদবাকি প্রস্তুতি
একসময় ওরও আর দেয় না শরীর
এক রাজ্যের অতৃপ্তির রেশ বুকে চেপে
পার্শ্ববর্তী যুবকের দিকে ঢলে পড়ে তরতর বেড়ে যাওয়া লতার মতো

পড়ন্ত তুলে ধরা বিধিসম্মত; আর
মেয়ে-ছেলের পরস্পরের প্রাকৃতিক মায়াটানের পরম্পরা
পুরো মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলে
কোথায় কোন্‌ এপিক গ্রন্থের নড়াচড়ার সূত্রপাত
সে ফিরিস্তির বর্ণবিলাস করা যাবে ভিন্ন পরিসরে
এখন চুপ
ক্রমশ শরীর ঊঠছে জ্বলে ধূপকাঠির প্রজ্জ্বলনের মতো
আবহাওয়ায় ছড়ায় সৌরভ
এই পরিমণ্ডলে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশ নিষেধ।


                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]