mobile site creator

কবিতা            Home      
মাধব বণিকের পাঁচটি কবিতা



বৃক্ষ সাজাব

ভাঁড়ার শূন্য করে ফসল এনেছি ঘরে 
তোকে ছেড়ে দেব প্রপাতের জলে ?
এক শূন্যে বহুকাল অবয়ব লুকিয়েছি
চোখ-শূন্যে তোকেই ছুঁয়েছি গাছের নাভিমূলে
এক বৃক্ষ পাখিদের মাঝে
আমার সাদা রুমাল নীরবতা চেয়েছে
শুকোতে দিয়েছে সুখের ঘ্রাণ
তোকে আমি বৃক্ষ সাজাবো একদিন।


অবসরের ছিন্ন কবিতা

কখনও কখনও ছায়া ফেলে অগ্রন্থিত কবিতার মুখ
দূরের পিদিম
শীতলার খ্যাপাটে চোখের মতো দুলতে থাকে।
কারও নৈঃশব্দ্য দরজা পর্যন্ত
আলতার ছাপ রেখে যায়। ফিরে যাওয়ার আগে
দুটি রঙিন পা এলোমেলো কথাহীন চঞ্চল হয়েছিল।
বসতবাড়ির চিলেকোঠা কেন যে বদলে যায়
অবসরের ছিন্ন কবিতার মতো।


অবেলার আলো

অবেলার আলো ছায়া ফেলে বারবার
বন্ধকি স্বপ্নের মতো এলোমেলো, আবছা।
আমাদের প্রজননহীন আলোর উৎসে
অসংখ্য সাবধানী হাত নিষেধের ফেস্টুন ঝুলিয়েছে
সাদা ক্লাসঘরে বদলে যাচ্ছে গাঢ় উচ্ছ্বাস
আলোর অখণ্ড কাঁধে মরীচিকার নৌকো উল্টে আসে
সব পঠিক আমার গায়ে উসকে দিচ্ছে জীর্ণপাতার উড়ানগদ্য
মুহূর্ত-ভুলে মাথা উড়ে যাচ্ছে নদীর অকূলে
খাঁ খাঁ রোদ্দুরে তরমুজের দামে বিক্রি হয় শরীর
অবেলার ছবি আয়না জুড়ে মেক-আপ করে জীবনের।


রোদ

বসন্তের পোড়া রোদ
জলের উপর ছায়া ফেলতে ফেলতে
পশ্চিমের তমাল ছায়ায় দেখল কাকের রোদ-বাসনা
বিকেলের গা ধোয়া বউ দ্রুত পাড়ে উঠে
ফিরে দেখল সোনালি জল
ভাটির মাঝি ফিরে ফিরে খুঁজল পাড়ের পথ

আমাদের গোপন রোদে মাঝে মাঝে পাখি বসে
আর খুঁটে খুঁটে খায় বিকেলের ওম


হ্রদের জল

হ্রদের জলে এখনও সাদা কালো বকের ঝাঁক আসে
মাছের পোনারা অবাক হয়, ডাকে
তখনও ঠোঁটের কষ টের পায়নি আর এভাবেই
অনেকগুলো মুগ্ধ বিকেল কেটে যায় একসাথে

নীল জলের রহস্যে হ্রদের সংসার পরিপূর্ণ
সব রুগ্নতা ধুয়ে তার নিরাকার শরীর
শুধু পূর্ণতার ভাষা শিখেছে। বানভাসির
কাটা দাগ কখন মুছে যায়, সেও কি জানে ?
দূরের আকাশ বোঝে, ঠিক কখন বকের চোখ
জলের সংসার ভেঙে ঢেউ তুলবে শালুকের বুকে।


                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]