free website creator

কবিতা            Home        
তুষ্টি ভট্টাচার্য



এভাবেও ফিরে আসা যায় 

এভাবেও ফিরে আসা যায়।
ফিরে আসার পথে
যত অক্ষর, আলো, ধুলো, মাছি
পিছলে পড়া রোশনাই-
এড়িয়ে গিয়ে, ফেরা যায়।

প্রতিবিম্বের থেকে দূরে গিয়ে
একা থেকে আরও একা এক বিষয় নিয়ে
ফিরতে হয়।

এলাচের গন্ধ থেকে সরে গেছে যে পায়েসের দিন
যে রাত রুটি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরে –
ফেরা যায় সেখান থেকেও।

শীতের শেষে যারা জেগে উঠেছিল
কমিয়ে রাখা আলো উস্কে দিয়ে
ফিরেছিল তারাও।

খোসা ছাড়ানো শেষ হলে
ন্যাংটো জীবন থেকে কেউ কেউ ফেরে।
ট্রিপল ফিল্টারড্‌ কফির চুমু
ফেরার নিশানা হয়।

সিঙ্কে ডুবে যেতে যেতে
বোঝা বাড়ে, রান্নাঘর ততটা খারাপ কিছু নয়
যতটা ডোবায় ছিল।
ফিরে আসায় সেভাবে আলো জ্বলে না

চেনা কোক আর ধোয়ার ম্যাপ
মুখস্থ করে যারা, তারা ফিরতে চায় নি।
হাইরাইজ থেকে লাফ দিয়ে যে জন্ম
তার ফেরা হয় নি কখনই।

মোমবাতি থেকে জ্বলে ওঠা শোক
বুকে ঠাণ্ডা বাতাস লেপটে নিয়ে
মৃত্যুর কাছে ফিরে যেতে চায়।
এক গ্যালাক্সি ভরা আলোয়
মুখোমুখি দেখা হয়

ফিরে যেতে হলে সমতলে
ডাউন ট্রেন ডাক দেবে
হুইশল থেকে মুখ ফিরিয়েও
নেমে আসে কেউ কেউ।

ডাস্টার ধীরে ধীরে মুছে দেবে
রুটিন লিখে রাখা ব্ল্যাকবোর্ড
ছুটির ঘন্টা পড়ে গেলে
গেট খুলে যাবে নিয়ম মত।

ঝোলানো চশমা থেকে
যতটা দূরে থাকে চোখ
আবছায়ার হাত ধরা
ফেরার ঘরবাড়িও ততটাই দূরে।

মায়োপিক দূরত্বে যাওয়া হাত
ফেরার সমগোত্র হলে
যাওয়া-আসার মাঝে
কোন চিহ্ন থাকে না।


                                                  HOME

[এই লেখাটা শেয়ার করুন]